ঝিনাইদহের পাগলাকানাই এলাকায় ফুটপাতে আরামে ফলের ব্যবসা করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী আকুল হোসেন। দোকান ও নিজের শরীর ঠান্ডা রাখতে দোকানের চালে ঘাষ চাষ করেছেন তিনি। যা প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তার দোকান ঠান্ডা থাকছে।
স্থানীয়রা জানান, আকুল হোসেনের এই পদ্ধতি খুবই চমৎকার। গরমে অন্য ব্যবসায়ীরা যখন কষ্ট পাচ্ছেন, দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন আকুল হোসেন তখনও ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তার দোকানে ক্রেতার ভিড়ও বেশি।
আকুল হোসেন ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র। ৩ শতক জমির ওপর সেমিপাকা একটি ঘরে মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি। পুঁজি বলতে তার বাড়ি আর একটি ফলের দোকান।
আকুল হোসেন জানান, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়ায় ছোট থেকে তিনি হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে তিনি যাত্রীবাহী বাসে কলা বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি গাড়িতে হকারি করেছেন। এরপর নিজে একটি ভ্যানগাড়ি কিনে সেই ভ্যানে কলা বিক্রি করতেন। ১৫ বছর এভাবে ভ্যানে করে পাকা কলা বিক্রি করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ী দোকান বানিয়ে সেখানে ফল বিক্রি করছেন।
আকুল হোসেন জানান, সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। দোকানটি তৈরি করতে তাকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। এরপর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ফল উঠান। এই ফল বিক্রি করতে থাকেন। তার দোকানে কেনাবেচা মোটামুটি ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু রাস্তার পাশে দোকান হওয়ায় গরমে বসতে পারছিলেন না। ছোট্ট ঘরটিতে ছোট একটি ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলেও তা গরমে বসা উপযোগী ছিল না। এভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন আকুল হোসেন।
আকুল জানান, একদিন টেলিভিশনে দেখতে পান ঘরের ছাদে গাছ লাগিয়ে ঘর ঠান্ডা করার পদ্ধতি। এরপর তার ইচ্ছা জাগে তিনিও ছোট্ট ঘরটি ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করবেন। চার বছর আগে তিনি দোকানের ওপরে থাকা পলিথিনে মাটি দিয়ে তার ওপর ঘাষ লাগিয়ে দেন। মাত্র ৩ হাজার টাকা দিয়ে লক্ষ্মী ঘাষ বলে পরিচিত এক ধরনের ঘাষ লাগান। এই ঘাষে মাঝে মধ্যে পানি দেন। আর কোনো যত্ন করতে হয় না। ঘাষগুলো সবুজ হয়ে আছে মাথার ওপর। নিচে আরামে দোকানদারী করছেন আকুল হোসেন।
তিনি জানান, তার দোকান সারাদিন ঠান্ডা থাকে। বর্তমানে যে গরম চলছে সেই সময়েও তিনি ঐ ঘাষের নিচে বসে ব্যবসা করছেন। একবার ঘাষ লাগিয়ে দিয়েছেন এটাই বংশ বিস্তার করে তার দোকান সবুজ করে রেখেছেন। মাঝে মধ্যে ঘাষগুলো ছেঁটে দেওয়া প্রয়োজন হয় বলে জানান। এখন তিনি ভালোভাবে ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাাজর টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। যা থেকে ১১ থেকে ১২ শ টাকা আয় হচ্ছে। এই দিয়ে তার সংসার চলছে।
ঐ এলাকার বাসিন্দা গুলজার হোসেন জানান, দোকানের ওপর ঘাষ লাগিয়ে শুধু দোকান ঠান্ডা করেনি, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানটি পলিথিনের হলেও ঘাষের কারণে বাইরে থেকে দেখতে ভালো লাগছে। তার এই পদ্ধতি অনেকে দেখে প্রশংসা করছে।
দোকানের ক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, রাস্তার ধারে দোকান হলেও ঘাস লাগিয়ে দোকানদার দোকান ঠান্ডা করে রেখেছেন। তাই সারাক্ষণ দোকানে থাকতে পারেন। তারাও দোকানটি সব সময় খোলা পাওয়ায় এখানেই ছুটে আসেন
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ