নিজস্ব প্রতিবেদন: বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে হাটবোয়ালিয়ার ১২ কিলোমিটার সড়ক। এ সড়টি ঘেষেই রয়েছে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে আরো কয়েক গুণে। সড়কটি সংস্কারে প্রায় তিন বছর আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে কাজ শুরু করেনি। এতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে দ্রুতই কাজ শুরু করতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এই সড়ক ধরেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অথচ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ১২ কিলোমিটার সড়কজুড়েই রয়েছে ভাঙা ও খানাখন্দ। দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষদেরকে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ ও ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের। ১২ কিলোমিটার সড়কজুড়েই রয়েছে ভাঙা ও খানাখন্দ। এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী আবুল কালাম নামে এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে এ সড়ক ধরে আলমডাঙ্গা থেকে ঘুরে আসলেই বদলে যায় নিজেরই চেহারা। জামা কাপড় ও ধুলা বালুতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হচ্ছে গাড়ির ক্ষতি। রফিকুল ইসলাম নামে একজন জানান, এ সড়ক দিয়েই আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবহার করতে হয়। প্রতিদিন উপজেলার শত শত রোগী এই ভাঙাচোড়া রাস্তা ব্যবহার করছে। এতে রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান রাব্বি জানান, এই সড়ক ধরে অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে হারদীর এমএস জোহা কৃষি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে। প্রতিদিন এ পথে ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাওয়া আসা করে। অনেক সময় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতেও তাদের সময় নষ্ট হয়। প্রায় ৩ বছর আগে সড়কটি সংস্কারে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে সংস্কার হচ্ছে না সড়কটি। এতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এরই মধ্যে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। ঠিকাদার পরিবর্তন করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানেরও দাবি জানান তারা। ১২ কিলোমিটার সড়কজুড়েই রয়েছে ভাঙা ও খানাখন্দ। হারদী এলাকার স্থানীয় ইসতিয়াক মিজান বলেন, সড়ক সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে বছর তিনেক আগে। আজো একটা নির্মাণ সামগ্রী পড়েনি এখানে। শুনছি এরই মধ্যে ১১ কোটি টাকা খরচও দেখানো হয়েছে। তবে কাজ তো হয়নি একটি টাকারও। অপর স্থানীয় লুডু খান জানান, কাজ শুরু না করলে অবলিম্বে এ কার্যাদেশ বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হোক। তবুও অন্তত সংষ্কার শুরু হবে। স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে জনপ্রতিনিধিরাও। দ্রুত সড়ক সংস্কার কাজ শুরু না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা। আলমডাঙ্গার হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, যদি কাজ শুরু না করা হয় তবে এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সুখবর পাইনি আজো। চুয়াডাঙ্গার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, করোনার লকডাউন ও কিছু সংকটের কারণে কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এরইমধ্যে দুইবার সময় ও বাড়ানো হয়েছে। এবার জুনের মধ্যে কাজ না শেষ করতে পারলে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। ঠিকাদার আরেফিন আলম রঞ্জুর দাবি, বাজেটের ৫০ শতাংশ টাকা দিয়ে এরই মধ্যেই সব ধরনের নির্মাণ সামগ্রী কেনা হয়েছে। যথা সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। এছাড়া টেন্ডারের সঙ্গে সংস্কার নকশার কিছুটা তারতম্য থাকায় নানা জটিলতায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। ২১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এ কাজের অনুমোদন পাওয়া যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ