হাফিজুর রহমান :আলু সিদ্ধ খ্যায়া দুই দিন থাকি রোজা আচু। দুই কেজি চালের টাকা রোজগার করতে না পারলে আইজও আলু সিদ্ধ খাওয়ার নাগবে।' এভাবেই দৈনিক সমকালের কাছে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দরিদ্র রিক্সা-ভ্যান চালক নুরনবী (৬০)।
নুরনবী আরও বলেন, 'আইজ কয়দিন থাকি নকডাউন (লকডাউন) হওচে। সেই থাকি কোন কামাই রোজগার নাই। বাইরে মানুষ বাইর হয় না। ভ্যানে যাত্রী ওঠে না। ঘরোত চাউল নাই। খায়া না খায়া দিন কাটোছে হামার। বউ ছইল নিয়া খুব কষ্টে আছি।’
নুরনবীর পরিবারে ৬ সদস্য। সবচেয়ে ছোট ৭ বছরের মেয়ে। ৪ শতক জমিতে খড়ের বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন তিনি। আবাদী জমি নেই এক শতকও।
আক্ষেপ করে নুরনবী জানান, 'সরকারি কোন অনুদান, ভিজিডি, ভিজিএফ, কিংবা বয়স্ক ভাতা সুবিধা পাননি তিনি। লকডাউনের কারণে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত এক টাকাও রোজগার হয়নি তার। চালের টাকা রোজগার করতে না পারলে হয়তো আজও সেন্ধ আলু খেয়ে রোজা থাকতে হবে তার।
তিনি জানান, নিজেরা কোনরকমে আলু খেয়ে দিন কাটালেও ছোট সন্তানটি খেতে চায় না। ভাত খাওয়ার বায়না ধরে।
সমকালের এই নিউজ চোখে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশের আইকন ও রংপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের। সাথে সাথে তিনি নিজে হতদরিদ্র ওই রিকশাচালক ও তার পরিবারের খোজ নেন। পাঠিয়ে দেন চাল, ডাল, আটা, লবণ, তেল, পেয়াজ, মুরগীসহ ১ মাসের বাজার ও নগদ সাহায্য। আজ শুক্রবার এসপি বিপ্লব কুমার সরকারের পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আশরাফুল আলম (পলাশ) মিঠাপুকুর থানার লতিফপুর ইউনিয়নে রিকশাচালকের বাসায় এই উপহার পৌঁছে দেন। করোনার এই মহামারীতে অভাবে থাকা রিকশাচালক ও তার পরিবার পুলিশ সুপারের উপহার পেয়ে আনন্দে কেদে ফেলেন। এসময় উপস্থিত গ্রামবাসীও পুলিশ সুপারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। গতবছরও করোনাকালীন দুর্যোগে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপদগ্রস্ত নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেন। এবছর করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই রংপুরের অসহায় মানুষের জন্য এসপি বিপ্লব কুমার সরকারের এই মানবিক সাহায্য অব্যাহত আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ