আল-আমিন হোসেন পরশ : হাড়কাঁপানো শীতের সন্ধ্যা। কনকনে হাওয়ায় জমে আসে হাত-পা, আর ঠিক তখনই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা যেন প্রাণে নতুন উষ্ণতা ঢেলে দেয়। সেই চিরচেনা বাঙালি আড্ডার দৃশ্যপটে এবার যোগ হয়েছে ভিন্ন এক স্বাদ, ভিন্ন এক অনুভব। আলমডাঙ্গার শীতসন্ধ্যায় চায়ের কাপে নতুন গল্প লিখছে গ্রামীণ ফুড ক্যাফে (জিএফসি)।
প্রথাগত বিস্কুট বা চানাচুরের গণ্ডি পেরিয়ে, তিল দিয়ে সেঁকা মচমচে পাউরুটি, খাঁটি মধু আর দুধের ঘন সর এই অনন্য মেলবন্ধন এনে দিয়েছে চায়ে এক অন্যরকম মাত্রা। হামিদুলের হাতে গড়া এই ক্যাফেটি যেন শীতের সন্ধ্যায় আড্ডার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
আলমডাঙ্গা শহরের মিয়াপাড়ায়, সিঙ্গার শোরুমের ঠিক সামনে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বসে এই বিশেষ চায়ের আসর। মাটির কাপে পরিবেশিত গরম চা, চারপাশে গল্প-হাসি আর আড্ডার কলরব সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ। অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাদ আর ভিন্ন উপস্থাপনার কারণে স্থানীয়দের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে জিএফসি।
শীতের আমেজকে উদযাপন করতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে শুধু চা নয়, আছে শীতের জন্য তৈরি বিশেষ চা।
তিল ছড়িয়ে বিশেষভাবে সেঁকা পাউরুটি মচমচে, সুগন্ধি আর স্বাদে অনন্য।তার ওপর পুরু দুধের সর, প্রাকৃতিক মধু আর সাদা তিলের ছোঁয়া যেন একেকটা কামড়েই শীতের সুখ।
মসলা চা, লাল চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফ্লেভারের চা ও কফিও রয়েছে তালিকায়।সবচেয়ে ভালো দিক এই স্বাদের আয়োজন সবার সাধ্যের মধ্যেই।রেগুলার লাল চা মাত্র ৮ টাকা,স্পেশাল মালাই চা ৪০ টাকা,আর পোড়া পাউরুটি পাওয়া যায় ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই।চা-আড্ডায় আসা সাব্বির নামের এক চা প্রেমী আবেগভরে বলেন,শীতের সন্ধ্যায় তিল দেওয়া পাউরুটি আর সর-মধুর এই কম্বিনেশনটা সত্যিই অসাধারণ। আলমডাঙ্গায় এমন স্বাদ আগে পাইনি। এখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা মানেই জিএফসি।গ্রামীণ ঐতিহ্য আর আধুনিক আড্ডার এই সুন্দর মেলবন্ধন আলমডাঙ্গার শীতকালীন সন্ধ্যায় এনে দিয়েছে নতুন উষ্ণতা, নতুন স্বাদ। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চা প্রেমীদের ভিড়ে মুখর থাকে জিএফসির এই ভ্রাম্যমাণ স্টল যেন শীতের রাতে এক কাপ চায়ের উষ্ণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ